অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স :

দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ প্রতিষ্ঠিত হলেও বিগত প্রায় তিন বছরেও বিভাগীয় শহরটিতে এখনো কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন নাগরিকদের চোখে পড়েনি। যানজটের শহরটি এখনো রয়েই গেছে। প্রতিনিয়ত শহরবাসীর যানজটের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তাই যানজটমুক্ত, সড়কে হকার ও ফুটপাত দখলমুক্ত, চুরি ছিনতাই এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ শহর উপহার দেয়ার দাবীসহ ৭দফা দাবীতে নবাগত পুলিশ সুপারের কাছে গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসময় স্মারকলিপি প্রদান ছাড়াও নবাগত ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনন্দন জানান নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে প্রদত্ত সাতদফা দাবীর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানানো হয়। এসময় দাবীগুলো মনযোগসহকারে শুনেন পুলিশ সুপার এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের আশ^াস দেন। একটি নাগরিকবান্ধব নিরাপদ নগরী উপহার দিতে নাগরিক নেতৃবৃন্দসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেন।


ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি পুলিশ সুপারের কাছে প্রদান করা হয়। জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা নাগরিক আন্দোলনের নেতা কাজী রানা, কাজী আজাদ জাহান শামীম, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, ড. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক মফিজুন নূর খোকা, দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রদীপ কুমার বিশ^াস, ফেরদৌস আরা মাহমুদা হেলেন, অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম,খন্দকার শরীফ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হাবিবুজ্জামান খুররম, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ পাল, শহীদুর রহমান শহিদ, নিয়ামূল কবির সজল, শংকর সাহা, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, খন্দকার সুলতন আহমেদ, আজহার হেসেন, আবুল মুনসুর, আইনুন নাহার, মজিবুর রহমান শেখ (অনিন্দ মিন্টু), নাজমুন নাহার মুক্তা, মমতাজ বেগম শোভা, সুরাইয়া ইয়াসমিন, কামরুন্নাহার, প্রমূখ।
জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত স্মারকলিপির সাতটি দাবী হলো- (ক) ময়মনসিংহ জিলা একটি প্রাচীন বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী জেলা। এটিকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী বলা হয়। ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের যানযট একটি প্রধান সমস্যা। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ফুটপাত বেদখল হয়ে গেছে। ইহা ছাড়া রাস্তার উভয় পার্শ্বে রাস্তার উপর অবৈধ দোকানপাট মারাত্মক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। আমরা অবিলম্বে রাস্তা ও ফুটপাতের অবৈধ দোকান পাটের উচ্ছেদ চাই।
(খ) আপনি জেনে বিস্মিত হবেন যে ময়মনসিংহ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে (ষ্টেশন রোড-গাঙ্গিনাড়পার) একটি পতিতালয় অবস্থিত। এই পতিতালয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কা কিশোরী অহরহ বিক্রয় হয় এবং এদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পতিতালয়টি মদ,মাদকের এবং অবৈধ ব্যবসার ঘাটি ও অপরাধীদের একটি আখড়া। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ শহরের কেন্দ্র স্থল থেকে পতিতালয়টি স্থানান্তরের জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে চেষ্ঠা করেও সফল হইনি। আমরা আশা করব আপনি ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে পতিতালয়টি স্থানান্তর,অপসারন কিংবা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
(গ) সাম্প্রতিক কালে আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে ময়মনসিংহ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস সহ অন্যান্য সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও বিভিন্ন ভূমি অফিসে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে জনসাধারণ প্রতি নিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উলেখিত অফিস সমূহে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সরকার নির্ধারিত খরচে কোন দলিল রেজিস্ট্রি করা যায় না। নির্ধারিত খরচের বহু গুণ এমনকি হাজার গুণ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। ভূমি অফিসে জমা খারিজ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ভূমি অফিসেও জমা খারিজ করতে নির্ধারিত খরচের বহু গুণ টাকা গুনতে হয়। এহেন বেআইনি ও অন্যায় কার্যকলাপ রোধ করতে আমরা আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
(ঘ) খাদ্যে ভেজাল, ফলমূলে ভেজাল, মাছ, মাংস, তরি-তরকারীতে ভেজাল জনস্বাস্থ্য দুর্বিসহ করে তুলেছে। এ বিষয়ে আমরা আপনার পদক্ষেপ কামনা করছি।
(ঙ) ময়মনসিংহ শহরের বাসা-বাড়ী ও অলি-গলীতে চোর,ছিনতাইকারী,নেশাখোর ও ইভটিজারদের দৌরাতড়ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের উৎপাত শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
(চ) শহরে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রন আরোপ করতে হবে। ইহা ছাড়া লাইসেন্স ও
ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।
(ছ) শহরে দিনের বেলায় বাহিরের বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ##