অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স :

বিজয়ের এই মাসে, আমাদের স্বাস্থ্যখাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেক বিজয়!

বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ এর তত্তাবধানে মাত্র দুই বছরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন দেশের সেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিজয়ের এই মাসে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর হালনাগাদ তথ্য আপডেট ও উন্নয়ন বার্তায় বলেন-

প্রিয় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী

আমি ৩ বছর ২ মাস কাজ করছি। 
সকল ভাল অর্জনের পিছনে সকল পর্যায়ের অধ্যাপক, হাসপাতের সকল চিকিৎসক, নার্সিং অফিসার, সকল টেকনলজিস্ট,  তৃতীয় ও শ্রেনির কর্মচারী, পুলিস, আনসার, আউট সোর্সিং এর জনবলের সহযোগিতা সর্বোপরি ময়মনসিংহ বিভাগবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন আমাদেরকে হাসপাতাল চালাতে সাহায্য করেছে। অনেক প্রতিকুলতায় আল্লাহ সাহায্য করেছেন।

আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের অবহিত করছি।

আমরা যা করেছি তা পর্যাপ্ত না হলেও কিছুটা হলেও অগ্রগতি হয়েছে।
আমরা আগামী দুই মাসে যা যা সংযোজন করতে যাচছি।


১। আধুনিক MRI মেশিন ও CT স্কেন মেশিন।
২।ক্যাথ ল্যাব মেশিন যাতে হার্টে রিং পরানো যাবে।
৩। কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন
৪। ডায়াবেটিস ও হরমোন ক্লিনিক
৫। হাইপার টেনশান বা ব্লাড প্রেশার ক্লিনিক

(এগুলো ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে জুনের মধ্যে চালু হবে। মেসিন আমাদের হাসপাতালে এসে গেছে ও আসার পথে)

৬। পেসেন্ট ওয়েলফেয়ার সার্ভিস
৭। থ্যালাসেমিয়া ক্লিনিক
৮। রোগী ট্রিটমেন্ট বুক যাতে রোগীর সব ইতিহাস লিপিবদ্ধ থাকবে। ৩০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে শুধু ছাপার খরচ।

আপনাদের অর্থাৎ রোগী ও স্বজনদের দায়িত্ব।

১। হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় কারণে আসবেন না।
২। একজন রোগীর সাথে একজন এটেনডেন্ট থাকবেন ফেরতযোগ্য ২০০ টাকা নিয়ে এটেনন্ডেন্ট পাস ক্রয় করবেন।
৩। ওয়ার্ডে থাকাকালীন সময়ে ময়লা আবর্জনা জানালা বা বারান্দা দিয়ে ফেলবেন না।
৪,। টয়লেটে সেনিটার‍ি প্যাড ফেলবেন না।
৫।জরুরী পরিস্থিতে ওয়ার্ডে, ২০ -২৫ জন প্রবেশ করবেন না। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
৬। প্রভাব বিস্তার করা অনৈতিক। যার অসুস্থতা যত বেশি সেই আগে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারী। 
৭। দালাল প্রতিরোধ করুন। সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করুন।
৮। নাগরিক হিসেবে নিয়ম মেনে চলুন। সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে নিজকে আগে পরিবর্তন করতে হয়। অন্যের নিন্দা না করে তার মধ্যে ভাল কি আছে সেটা খুঁজুন। শান্তি পাবেন।

*** চিকিৎসা একটি সমন্বিত দলগত প্রক্রিয়া।এখানে ডাক্তার থেকে শুরু করর, পরিচ্ছন্ন কর্মী,রোগী, এটেন্ডেন্ট সবাইকে সহনশীল ও পজিটিভ থাকতে হয়।তারপরেও সমাজে প্রত্যেক পেশাতেই সবার বিশ্বাস, চিন্তাভাবনা, আবেগ, প্রত্যাশা প্রাপ্তির হিসেব কোন দিন ই এক হয় না।সবার ভুল হয়। কাউকে বা কোন পেশাকে অসন্মান করা উচিৎ নয়।*****

★★কোন ব্যাপারে ক্ষুব্দ হলে প্রশাসন কে জানান, ধমক দিবেন না

★কারন আমরা, ইন্ডোরে গড়ে ৩০০০ ও আউট ডোরে ৬০০০ রোগী র চিকিৎসা দেই।

★কিন্তু সেই পরিমান দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল ও জায়গার তীব্র সংকট।

আশার কথা
আমাদের হাসপাতালের জন্য ১২ তলা বিশিষ্ট দুই টা ওয়ার্ড হচ্ছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন হচ্ছে।

সব মানুষ সমান ধৈর্যশীল হয় না; কোন কালেই ছিল না। আমাদের রোগী, এটেনডেন্ট স্টাফ, ডাক্তার রা পরিশ্রম করেন। কিন্তু আমরা পুরো খুশি হতে পারি না।

এর কারন ধারণ ক্ষমাতার অতিরিক্ত রোগী,সকল পর্যায়ের স্টাফ ও ডাক্তারের স্বল্পতা।সর্বোপরি দক্ষতার ঘাটতি।

কেউ যদি তাঁর দায়িত্ব অবহেলা করেন, ফাঁকি দেন আল্লহ সেটা দেখবেন। এত সস্তায় পৃথিবীর কোথাও চিকিৎসা নাই এবং এত দ্রুত চিকিৎসা পৃথিবীর কোন দেশে হয় না।

★আমি ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ডাক্তারদের কাজে পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ। ওরা নবীন শিক্ষানবিস চিকিৎসক।

★নার্স অফিসারদের আর একটু সহনশীল হতে হবে। কিছু না করতে পারলে অন্ততঃ ভাল ব্যবহার করুন।

★রোগীর স্বজনরাও সহযোগিতাপূর্ন মনোভাব নিয়ে শান্ত থাকুন। যখন কোয়ান্টিটি বাড়ে তখন সব কিছু মানসন্মতভাবে দেয়া সম্ভব হয় না

আমি দোষ ত্রুটি মুক্ত নই। আমার সাধ্যের সবটুকুই দিয়ে কাজ করছি। কাংখিত উন্নতি হয়তো হয়নি। সে জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ 

পরিচালক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল