‘‘সঠিক স্বাস্থ্যসেবার সুফল পেতে সেবাদাতা এবং সেবাগ্রহীতার সমন্বয় সাধনের বিকল্প নেই’’
উপ-পরিচালক, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স : গত কাল ২৮ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার, স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-(টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ময়মনসিংহ সদর এর উদ্যোগে এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ২৮ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার বেলা ১২.০০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স হলে স্বাস্থ্য সেবাগ্রহীতা ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে এক জবাবাদিহিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সদস্য তসলিম উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন সনাকের সহ-সভাপতি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক মীর গোলাম মোস্তফা।

সনাক সভাপতি শরীফুজ্জামান পরাগ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার, উপ-পরিচালক মমেকহা। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা-পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেন সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. মো. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী এবং হাসপাতালের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তুলে ধরেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. হিবরুল বারী। সভায় হাসপাতালের সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে সনাক তথা টিআইবি’র প্রত্যাশা উপস্থাপন করেন টিআইবি’র ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার-সিই, চিত্ত রঞ্জন রায়।

হাসপাতালের সেবার সার্বিক মানোন্নয়নে সুপারিশ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশ্নোত্তর পর্বের আলোচনায় লিখিতভাবে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাগণ তাদের প্রশ্ন ও সুপারিশ তুলে ধরেন। তন্মধ্যে রেডিওথেরাপীর সেবা না পাওয়া, বার্ণ ইউনিটের সেবাসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা, বিনামূল্যে প্রদত্ত ঔষধের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ, শিশু ওয়ার্ডের সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ, প্যাথলজী পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাসকরণ, বাথরুমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, ওয়ার্ড বয় কর্তৃক হুইল চেয়ার বা ট্রলির সেবা প্রাপ্তিতে অনৈতিকভাবে বকশিস প্রত্যাশা, ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার কারণে ভুল ঔষধ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বিভিন্ন সেবার ফি বিশেষত: আল্ট্রাসনোগ্রাফী ফি এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায়, সার্জারীর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস, রাতের বেলায় ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ডাক্তারের স্বল্পতা, কেবিনে চিকিৎসকের কম উপস্থিতি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য যা মতবিনিময় সভায় আলোচনায় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার, উপ-পরিচালক, মমেকহা বলেন, কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবার সুফল পেতে সেবাদাতার সেবা প্রদান এবং সেবাগ্রহীতার সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধনের বিকল্প নেই। যারা সেবা দেন এবং যারা সেবা গ্রহণ করেন, উভয়ের মাঝে সমন্বয় সাধিত হলে সুন্দর পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করা যায়। আর এ লক্ষ্যেই সনাক-টিআইবি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিলে সেবাগ্রহীতাদের সাথে এই মতবিনিময় সভা আহ্বানের মধ্য দিয়ে একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর পরিবেশে কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে। এহেন আয়োজনের জন্য তিনি সনাক-টিআইবি ময়মনসিংহ কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, সেবা গ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সুপারিশের বিপরীতে ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার, উপ-পরিচালক, মমেকহা জানান, রেডিওথেরাপী মেশিন নষ্ট থাকার ফলে প্রত্যাশিত সেবা দেয়া যাচ্ছে না। তবে মেশিন সাড়ানো বা বিকল্প মেশিনের ব্যবস্থার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে মমেকহা তে ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেশিন স্থাপন হতে যাচ্ছে। আউটডোরে ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করে ডাক্তারদের সেবা প্রদান ও সেবা গ্রহীতাদের সেবা গ্রহণের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে নতুন ভবনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা হচ্ছে এবং নবজাতকদের আইসিইউ এর কাছে অপেক্ষমান মায়েদের জন্য একটি মাদার্স কর্ণার তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আরো জানান, পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ানের অভাবে অনেক ভাল ভাল সেবা সাধারণ মানুষকে দেয়া যাচ্ছে না, পর্যাপ্ত এনেসথিওলজিস্ট এর অভাবে যথাসময়ে সার্জারী করা সম্ভব হয় না তবে থেলাসেমিয়ার রোগীদের জন্য হাসপাতালে খুবই আধুনিক একটি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে যা ঢাকার বাইরে সচরাচর পাওয়া যায় না। তিনি জানান, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও সেবাদানকারী সকলের আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এর ফলেই এক হাজার বেডের হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় আড়াই-তিন হাজার ভর্তিকৃত সেবাগ্রহীতা এবং ছয় হাজারের বেশি আউটডোরের সেবাগ্রহীতা সেবা পাচ্ছে। তারপরও কোন মানুষই ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, মমেকহা কর্তৃপক্ষসহ সেবাদানকারীদের সকলেই এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। তিনি মমেকহা’র বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সুশীল সমাজের এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

 

ফটো : শেখ অনিন্দ্যমিন্টু