ঈদ এলেই সড়কে জোড়াতালি !

0
18

প্রতিবার ঈদ এলেই সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের তোড়জোড় শুরু হয়। মন্ত্রণালয় থেকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সড়কমন্ত্রী মহাসড়কে ছোটাছুটি করেন, কিন্তু ঈদে ভাঙা সড়ক আর যাত্রীদের দুর্ভোগ—দুই-ই থেকে যায়। এবারও মন্ত্রীর হাঁকডাকের পর জোড়াতালির মেরামত শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ফলে ঈদযাত্রায় শঙ্কা রয়েই গেছে। বৃষ্টি বাড়লে এই শঙ্কা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে সওজের অধীনে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর অধীনে ছোট ও বড় মেরামত (পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স) করার কথা। এ ছাড়া দৈনন্দিন মেরামতও এই খাত থেকে হয়। বড় মেরামতের জন্য সারা দেশে ১৬০টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ করতেই প্রায় ছয় মাস চলে যায়। আর কাজ শুরু হয়েছে বর্ষা শুরুর পর। প্রতিবারই একই প্রক্রিয়ায় বড় মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হয়।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ৯ বছরে সড়ক ও সেতু মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বড় ও ছোট মেরামতের বাইরে দৈনন্দিন মেরামত সারা বছরই হওয়ার কথা। কিন্তু এগুলোও জুনে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে আগে করা হয়। এ সময়টাতে আবার বর্ষা মৌসুমও। কয়েক বছর ধরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঈদ। ঢাকা ও এর আশপাশ থেকে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ ঈদে বিভিন্ন জেলায় যায়। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে এর ৫৫ শতাংশই সড়কপথে যাতায়াত করে। ঈদ উৎসবের চাপে বর্ষায় জোড়াতালির যে মেরামত হয়, তা অনেকটাই অপচয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ঈদের আগে কর্মকর্তাদের সময় বেঁধে দেওয়ার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে, এতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। সিংহভাগ অর্থই লুটপাট ও অপচয় হয়। আর জোড়াতালির সামান্য যে কাজ হয়, যানবাহনের চাকার সঙ্গে তা ভেসে যায়। সারা বছর একতালে মেরামত করতে হবে।

সারা দেশে সওজের অধীনে সড়ক আছে প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার। সংস্থাটির মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (এইচডিএম) সার্কেলের গত ১৭ মে প্রকাশিত সমীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, ৮০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৯২০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৩ হাজার কিলোমিটার জেলা সড়ক বেহাল অবস্থায় আছে। তিন ধরনের সড়কের ২৫ শতাংশ খারাপ। এসব সড়ক মেরামতে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা দরকার বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ৮ জুনের মধ্যে সব মেরামত করার কথা বলার অর্থ এই নয় যে সব কাজ এই সময়েই হবে। মেরামতের প্রকল্প এক-দুই বছরের, তবে ঈদে যাতে সড়ক চলাচলে সমস্যা না হয়, সে জন্যই এমন নির্দেশনা।

সচিব দাবি করেন, গত বছর বর্ষাকাল বেশি সময় ধরে চলেছে। বন্যায় সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবার বর্ষা একটু আগে শুরু হয়েছে। এরপরও সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সচিব স্বীকার করেন, বেশির ভাগ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় জুন মাসে। এ জন্য বছরের শেষ দিকে ঠিকাদারদের তৎপরতা একটু বেশি থাকে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে