anindabangla

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , রবিবার , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ


কুরবানির তাৎপর্য

মুহা. নেয়ামতুল্লাহ রশিদী 
প্রত্যেক জাতির একটি খুশির দিন আছে। আমাদের এই আনন্দ মিশ্রিত খুশির দিনটি ঈদের দিন। আমাদের ঈদ বছরের দু‘টি- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল অযহা। সেই ঈদুল আযহার কুরবানীর ঈদ আজ সমাগত। মানুষ এই দিনে আনন্দ করে কিন্তু প্রশ্ন হলো এ আনন্দ কিসের? এই আনন্দ হলো কুরবানীর আনন্দ, উৎসর্গ করার আনন্দ,শুধু ভোগে নয় ত্যাগেও আনন্দ আছে। তাইতো ইতিহাসের সোনালী পাতায় স্বর্ণাক্ষারে লিপিবদ্ধ রয়েছে যে,চতুর্থ হিজরীর সফর মাসে রাসূল সা.হারাম বিন মিলহান রা.কে বনু আমের গোত্রের সরদার আমের বিন তোফায়েলে নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেন,হতভাগা আমের ইসলামতো গ্রহণ করলোই না বরং জব্বার ইবনে সালামা কে ইশারা করলো তাকে হত্যা করার জন্য। তৎক্ষনাৎ সে পিছন দিক থেকে তীর নিক্ষেপ করে তার সিনা ভেদ করে ফেললো ঠিক এসময় তার মুখ থেকে  উচ্চারিত হচ্ছিলো- অর্থ- আল্লাহু আকবার কাবার প্রভুর শপথ আমি সফল হয়ে গেছি।
অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় আমার জীবন উৎসর্গ করতে পারলাম এটাই আমর কামিয়াবী- সফলতা। আরব এই একটি মাত্র বাক্য সেই ঘাতকের ইসলাম ধর্ম কবুল করার কারণ হয়ে ছিল। মা- বাবা নিজেদেরকে বঞ্চিত রেখে সন্তানকে খাইয়ে সাজিয়ে যেমনিভাবে আনন্দ পায় ঠিক তেমনিভাবে মু‘মিন বান্দা-ও আল্লাহর পথে ত্যাগ করে আনন্দ অনুভব করে।যার জলন্ত প্রমান হযরত ইবরাহীম ও ইসমাইল আ. এর ঘটনা।যা কুরআনে কারীমে এভাবে ইরশাদ  হয়েছে – অর্থ অতঃপর সে ( ইসমাইল) যখন তার পিতার সাথে চলাফেরা করার উপযুক্ত হল তখন ইবরাহীম বললেন, হে বৎস!  আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমাকে জবেহ করছি।এখন তোমার অভিমত কী? সে বলল, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই পালন করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।অতঃপর যখন তারা দুইজনই আল্লাহর ইচ্ছার সামনে আত্মসমর্পণ করলেন এবং ইবরাহীম আ. তাকে কাত করে শুইয়ে দিলেন। তখন আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ বাস্তবায়ন করলে।নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই মুক্তি দিয়ে থাকি।নিশ্চয়ই এটা ছিলো এক সুস্পষ্ট পরিক্ষা।
আমি তাকে ( ইসমাঈল কে) মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে। সুরা সাফ্ফাত (৩৭):১০২-১০৭।
 প্রিয় বন্ধুরা! এ আয়াত থেকে বুঝতে পারলাম,ইবরাহীম আ.নিজেকে উৎসর্গ করার মাধ্যমেই আনন্দ বোধ করেছেন।তবে আমাদেরও সেই আনন্দ হতে হবে  একমাত্র আল্লাহর জন্য। কিন্তু আজ কতক মানুষ অনেক বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার মধ্যে বসবাস করছে। তারা নিজেদের অহমিকা-দাম্ভিকতা ও বড়ত্ব প্রকাশ করার নিমিত্তে কুরবানির জন্য  বড় বড়  পশু ক্রয় করছে, যাতে মানুষ তাকে বাহবা দেয়। এদের মতো বোকা ও নির্বোধ লোক আর আছে কী?। অথচ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, (৩৭) অর্থ- এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছেনা, পৌঁছে তোমাদের অন্তরের তাকওয়া।
তাকওয়া শব্দের অর্থ হল, ভয় করা, আর সেই ভয় যদি আমরা আল্লাহর জন্যে করতে পারি তাহলে সফল হয়ে যাব তাইতো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন অর্থ- হে ইমানদারগন! তোমারা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা কর এবং সদা যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত থাক এবং আল্লাহ কে ভয় করতে থাক; যাতে তোমরা সফল পার।(সুরা আল ইমরান- ২০০)। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, (১৬২) অর্থ- হে নবী বলুন,নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং মরণ সবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তষ্টির জন্যে। সুরা ( আন আম ১৬২)।
অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো কুরবানী আল্লাহর সন্তুষ্টিচিত্তে করা।কুরবানীর ফযিলত সম্পর্কে মহানবী সা. এরশাদ করেন,যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে সওয়াবের উদ্দেশ্য কুরবানী করবে তার  এ কুরবানী তার ও জাহান্নামের মাঝে এক প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে অন্য এক হাদীসে৷ সাহাবায়েকেরামরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিঙ্গেস করলেন,ইয়া রসূলুল্লাহ! কুরবানীর তাৎপর্য কী? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম আ. এর সুন্নত। তারা আবার জিজ্ঞেস করলেন,  হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের কী লাভ? তিনি বললেন, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে এক নেকী।পুনরায় সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন,হে আল্লাহর রাসূল! বকরি ও ভেড়ার লোমের বেলায়ও কী? তিনি বললেন,বকরীর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে।( ইবনে মাজাহ- ৩১২৭) অন্য হাদীসে আখেরী নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পতিত হওয়ার পূর্বেই কুরবানীদাতা মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদার স্থান দখল করে নেয়।উল্লিখিত হাদীসের আলোকে আমাদের সামনে কুরবানীর ফযিলতের বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেলো।
তবে আমাদের সমাজে আরেক শ্রেনীর লোক আছে যারা টাকা পয়সা হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে কুরবানী করেনা তাদের ব্যাপারে হুজুরে আকরাম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,যে ব্যক্তি কুরবানী করার সামর্থ থাকা সত্বেও কুরবানী করলনা, সে যেন আমাদের ঈদ গাহে না আসে। ( সুনানে ইবনে মাযাহ – ৩১২৩)।
প্রিয় বন্ধুরা! আমাদের জন্য কর্তব্য হল,কুরবানী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা এবং কুরবানী করার সামর্থ থাকলে কুরবানী করা। যদি এতবানুসারে কুরবানী করতে পারি তাহলে আমরা জান্নাতে সু- সংবাদ লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব।আল্লাহ আমাদেরকে কুরবানীর তাৎপর্য বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখকঃ মুহা. নেয়ামতুল্লাহ রশিদী 
জামিয়া দারুল উলূম নূরিয়া মাদরাসা গুলশান,  ঢাকা।
ফোনঃ ০১৯৬৩-৯৫১১৩১





দেশ প্রপার্টিজ

করোনায় মানবিক সাহায্য দিন

রুমা বেকারী

করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কীকরণ

নিত্যদিন বা উৎসবে,পছন্দের ফ্যাশন

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন

Top
Top