আবহাওয়া:
anindabangla

৯ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , রবিবার , ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


টেনিস খেলার ইতিহাস

টেনিস খেলার মাঠটি খুব বড় নয়। মাঠের মতো গ্যালারিও খুব একটা বড় নয়। টিভিতে আমরা যখন টেনিস খেলা দেখি তখন খুব একটা দর্শক গ্যালারিতে দেখা যায় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলতে পারি এই খেলাটার প্রতি দর্শকদের খুব বেশি টান নেই। তবে এই অল্প সংখ্যক দর্শকদের মধ্যে প্রায়ই গ্যালারিতে দেখা যায় বিশ্বের বাঘা বাঘা সব তারকাদের। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন টেনিস খেলার কদর কতখানি। বিশ্বের আর দশটা খেলার মতো নাম, যশ, খ্যাতি, সম্মান, অর্থকড়ি সবই রয়েছে এই খেলাটিতে।

শুরুটা যেভাবে হয়েছিল

অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, টেনিস খেলার শুরুটা হয়েছিল ফ্রান্সে। বারো শতকের কোনো এক সময় থেকে এই খেলাটির প্রচলন শুরু হয়। তবে জন্ম ফ্রান্সে হলেও মানুষ কিন্তু হয়েছে ইংল্যান্ডে। অর্থাৎ ফ্রান্সের বারো শতকের টেনিস ষোল শতকের দিকে ইংল্যান্ডে এসে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৮৮২ সালে ‘লিমিংটন স্পা’ ক্লাবটি গঠনের মাধ্যমে টেনিসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তবে প্রথমদিকে সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ইংরেজী ভাষাভাসি লোকদের খেলা ছিল এই টেনিস। সর্বপ্রথম ১৮৮৭ সালে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার শুরু হয় টেনিসে। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে উইম্বলডনের অল ইংল্যান্ড ক্লাবে প্রথম উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন প্রযোগিতার আয়োজন করা হয়। এভাবেই অনেক বছর কেটে যায়। এরপর ১৯২৪ সালে এসে জন্ম হয় ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশনের। এরপরই আন্তর্জাতিকভাবে পথচলা শুরু হয় টেনিসের। আরেকটা বিষয় হলো বিভিন্ন ধরনের টেনিস খেলার মধ্যে এই খেলাটি ‘লন টেনিস’ নামে পরিচিত।

খেলার ধরন

আর দশটা খেলার মতো টেনিসেও দুটি পক্ষ একে অপরের মোকাবেলা করে। তবে এর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। যেমন – সিঙ্গেল ও ডাবল। সিঙ্গেল বলতে বোঝায় এক জন করে খেলোয়াড় একে অপরের মোকাবেলা করবে এবং ডাবল এ দুই পক্ষেই দুইজন করে খেলোয়াড় থাকবে।

এবার আসা যাক টেনিস কোর্টের দিকে

খেলার ধরনের মতো টেনিস কোর্টেরও ভিন্নতা রয়েছে। পাঁচ ধরনের টেনিস খেলার কোর্ট থাকলেও সাধারণত তিন ধরনের কোর্টে পেশাদার টেনিস খেলা হয়ে থাকে। এই কোর্টগুলোর ভিন্নতা শুধুমাত্র পায়ের নিচের অংশটুকুতেই। অর্থাৎ যে অংশের উপর টেনিস কোর্ট তৈরি করা হয় সেই অংশটুকু কিসের, তার উপর ভিত্তি করে। যেমন –

  • ক্লে কোর্ট বা মাটির কোর্ট: দুই ধরনের মাটির কোর্ট আছে-লাল ও সবুজ মাটির। ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলা হয় লাল মাটিতে। ক্লে কোর্টে তুলনামূলক বলের গতি কম হয়। বল এখানে তুলনামূলক বেশি স্পিন করে।
  • হার্ড কোর্ট: সাধারণত কনক্রিট, অ্যাক্রেলিক ও অ্যাসফল্ট দিয়ে তৈরি হয় এ ধরনের কোর্ট। উদাহরণ হিসেবে আছে অস্ট্রেলিয়ান ও ইউএস ওপেন। এ কোর্টে বলের বাউন্স অনেক বেশি এবং অনেক বেশি গতিতে ছোটে বল।
  • গ্রাস কোর্ট: নামেই বুঝতে পারছেন ঘাসের কোর্ট। উইম্বলডন খেলা হয় এ সারফেসে। এ ধরনের কোর্টে বিরক্তিকর বাউন্স তৈরি হয় এবং বল তুলনামূলক বেশি গতিতে আসে।
  • কার্পেট কোর্ট: কোনো ধরনের কৃত্রিম সারফেস বসিয়ে খেলার ব্যবস্থা। এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। এখন আর পেশাদার টেনিসে ব্যবহৃত হয় না।
  • কাঠের কোর্ট: ১৮৮০ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত দারুণ জনপ্রিয় ছিল কাঠের সারফেসে টেনিস খেলা। ধীরে ধীরে এ কোর্টটি বিলুপ্তই হয়ে গেছে বলা যায়।

 

কোর্টের আয়তন

ম্যাচের ধরনের উপর ভিত্তি করে কোর্টের ধরন নির্ধারিত হয়। যেমন – সিঙ্গেল ম্যাচে কোর্টের আয়তন হয় লম্বায় ৭৮ ফুট এবং চওড়ায় ২৭ ফুট। আবার ডাবল ম্যাচে লম্বায় আয়তন ঠিক থাকলেও চওড়ায় হয় ৩৬ ফুট। কোর্টের মাঝামাঝি যে জালটি থাকে দুইক্ষেত্রেই সেটি ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি উঁচু থাকে। এছাড়া জালের দুই পাশে দুটি করে চারটি সার্ভিস কোর্ট থাকে। জাল থেকে এদের দৈর্ঘ্য হয় ২১ ফুট। আর লম্বায় দুই পাশে দুইটি নির্দিষ্ট মাপের ট্রাম লাইন রয়েছে।

কোর্টের যুদ্ধের নিয়ম

টেনিস ব্যাট হাতে দুই পক্ষ জালের দুই দিকে অবস্থান নেয়। প্রথমে এক পক্ষকে বল সার্ভ করতে হয়। তিনি তার প্রান্তের কোর্টের বেস লাইনের বাইরে থেকে বল সার্ভ করতে হয়। যিনি বল সার্ভ করেন তাকে বলা হয় সার্ভার। সার্ভারকে বেস লাইনের বাইরে থেকে বল সার্ভ করতে হলেও অপর প্রান্তে যিনি বল মোকাবেলা করবেন তিনি কোর্টের যে কোনো জায়গা থেকে তা করতে পারবেন। যে পক্ষ বল মোকাবেলা করে তাকে বলা হয় রিসিভার। সার্ভিসের বল খেলোয়াড়ের বিপরীত দিকের সার্ভিস কোর্টে পাঠাতে হয় মাঝখানে যে জালটি রয়েছে সেটি না স্পর্শ করিয়ে। প্রথমবার বল সার্ভ করার সময় কোনো ভুল হলে তাহলে সার্ভার দ্বিতীয়বার সার্ভ করার সুযোগ পায়। তবে দ্বিতীয়বার সার্ভ করতে কোনো ভুল করলে ‘ডাবল ফল্ট’ হিসেবে রিসিভার পয়েন্ট পায়। যদি সার্ভ সঠিকভাবে হয় তাহলে মূল খেলা এখান থেকেই শুরু হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকে প্রতিপক্ষের কোর্টে বল ফেরত পাঠানোর যুদ্ধ। যদি কোনো পক্ষ তার প্রতিপক্ষের কোর্টে বল ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হন তাহলে অপর পক্ষ পয়েন্ট পায়। তবে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, বল ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একবারই ব্যাট দিয়ে বলে আঘাত করা যাবে এবং বলটি দ্বিতীয়বার মাটি স্পর্শ করার আগেই তা করতে হবে।

যেভাবে পয়েন্ট ও স্কোরিং নির্ধারিত হয়

সার্ভার বল সার্ভ করার পর রিসিভার যদি বল ফেরত পাঠাতে না পারেন সেক্ষেত্রে সার্ভার ১ পয়েন্ট পাবেন। আর সার্ভার যদি দুইবার বল সার্ভ করতে গিয়ে ভুল করেন সেক্ষেত্রে ১ পয়েন্ট পাবেন রিসিভার। টেনিসে ১, ২, ৩ এভাবে পয়েন্ট হিসাব না করে ১৫, ৩০, ৪০ এভাবে ১ম তিন পয়েন্ট হিসাব করা হয়। চতুর্থ পয়েন্টে গিয়ে হয় গেম। এক পয়েন্ট এগিয়ে থাকাকে বলে অ্যাডভান্স, পয়েন্ট সমান হলে ডিউস। একটি গেম জিততে গেলে প্রতিপক্ষের চেয়ে কমপক্ষে ২ পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে হয়। নতুবা খেলা চলতেই থাকে।
এভাবে ছয়টি গেম দিয়ে হয় একটি সেট। এভাবে তিন বা পাঁচটি সেটে খেলার নিষ্পত্তি হয়। সাধারণত মেয়েদের বেলায় তিন সেটে এবং ছেলেদের বেলায় পাঁচ সেটের খেলা হয়। সেট ব্যবধান ২ থাকলে তবে একজনের জয় হয়। তবে গেম জেতার জন্য কোনো খেলোয়াড়কে পর পর দুই পয়েন্ট পেতে হয়। এভাবে কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে কমপক্ষে দুই গেম ব্যবধান রেখে ছয়টি গেম জয় করতে পারে তবে সে একটি সেট জিতে নিতে সক্ষম হয়। এভাবে সর্বোচ্চ সেট জয়ী খেলোয়াড় বিজয়ী হয়। কোনো সেটে ৬-৬ গেমে সমতা চলে আসলে তখন খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুই খেলোয়াড় মোট ১২ পয়েন্টের জন্য খেলেন; প্রতি সার্ভিসে এক পয়েন্ট। যিনি আগে ৭ পয়েন্ট জিততে পারবেন, সেট তার। তবে শেষ সেটে খেলা গড়ালে তখন আর টাইব্রেকার পয়েন্টের ব্যবধানে হয় না। তখন ফের দুই গেমের ব্যবধান রেখে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

টেনিসের গ্র‌্যান্ডস্লাম

টেনিস খেলোয়াড়দের নামের শেষে শোনা যায় ‘গ্র‌্যান্ডস্লাম’ বিজয়ী। এই ‘গ্র‌্যান্ডস্লাম’ হচ্ছে টেনিসের ৪টি টুর্নামেন্টের সমষ্টি। যে খেলোয়াড় এই চারটি টুর্নামেন্টেরই শিরোপা অর্জন করে তাকে বলা হয় ‘গ্র‌্যান্ডস্লাম’ বিজয়ী। এই চারটি টুর্নামেন্টের মধ্যে রয়েছে – অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন

প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্টটি। বুঝতেই পারছেন এটিই বছরের প্রথম গ্র‌্যান্ডস্লাম। ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম এই টুর্নামেন্টটি শুরু হয়। প্রথমদিকে ১৯০৫ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত গ্রাস কোর্টে অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্টটি। এরপর ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গ্রাস কোর্টের পরিবর্তে হার্ড কোর্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই টুর্নামেন্টটি। প্রথমদিকে খেলাগুলো একাধিক শহরে অনুষ্ঠিত হতো। যেমন – অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি এবং নিউজিল্যান্ডের দুটি শহরে খেলা অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে ১৯৭২ সাল থেকে প্রতি বছর একটি করে শহরে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার নাম পরিবর্তন হয়েছে এই টুর্নামেন্টটির। ১ম দিকে এর নাম ছিল ‘অস্ট্রেলিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ’। পরে ‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন’ নামকরণ করা হয় ১৯৬৯ সালে। এই টুর্নামেন্টটিতে একক, মিশ্র দ্বৈত, জুনিয়র, লিজেন্ড, হুইলচেয়ার বিভাগে পুরুষ ও মহিলা খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করে থাকে। এই টুর্নামেন্টে মেয়েদের বিভাগে সিঙ্গেলস বিজয়ীকে ‘ডেপনে আখারস্ট মেমোরিয়া’ ট্রফি প্রদান করা হয় এবং ছেলেদের বিভাগে সিঙ্গেলস বিজয়ীকে ‘নরম্যান ব্রুকব চ্যালেঞ্জ কাপ’ ট্রফি প্রদান করা হয়। ২০১০ সাল থেকে উভয়ক্ষেত্রে ট্রফির সাথে যুক্ত হয়েছে ২২ লাখ ডলারের প্রাইজমানি।

ফেঞ্চ ওপেন 

প্রতি বছর মে-জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্টটি। ক্লে কোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়া একমাত্র গ্র‌্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট এটি। ১৮৯১ সালে ফ্রান্সে শুরু হয় এই টুর্নামেন্টটির। তবে প্রথমদিকে শুধু পুরুষ খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করতো টুর্নামেন্টটিতে। পরে ১৮৯৭ সালে মহিলা বিভাগও চালু করা হয়। শুরুর দিকে এটি ‘ফ্রেঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল অব ডি রোলাঁ গ্যাঁরো’ নামে অফিসিয়ালি পরিচিত ছিল। যার সংক্ষিপ্ত নাম ছিল ‘রোলাঁ গ্যাঁরো টুর্নামেন্ট’। তবে ফ্রান্সের স্থানীয় লোকেরা ‘রোলাঁ গ্যাঁরো’ নামেই অভিহিত করে এই টুর্নামেন্টটিকে। এখনো ফ্রান্সে এই নামেই পরিচিত থাকলেও সারা বিশ্বে এটি ‘ফ্রেঞ্চ ওপেন’ নামেই পরিচিত। ১৯৮১ সাল থেকে নতুন পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। দ্য বেস্ট স্পোর্টসম্যানশিপের জন্য দেয়া হয় দ্য প্রিক্স, স্ট্রংগেস্ট ক্যারেক্টার ও পারসোনালেটির জন্য দ্য প্রিক্স সিট্রন এবং রেভেলাশন অব দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে দেয়া হয় প্রিক্স বোর্গিওন।
২০০৭ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান প্রাইজমানি দেওয়ার ঘোষণা আসে। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ছেলে ও মেয়েদের এককে চ্যাম্পিয়ন উভয় খেলোয়াড় পান ১১ লাখ ২০ হাজার ইউরো। আর রানার আপরা পান ৫ লাখ ৬০ হাজার ইউরো।

উইম্বলডন

প্রতি বছর জুন মাসের ৩য় সপ্তাহে টেনিসের সবচেয়ে প্রাচীন এই টুর্নামেন্টটি। এই সময়ের কোনো হেরফের হয় না। টেনিসের সবচেয়ে অভিজাত ও জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট হচ্ছে এটি। অর্থকড়ির দিক দিয়েও এটি এগিয়ে। আর এতিহ্যগত বিষয় তো রয়েছেই। ১৮৭৭ সালে সর্বপ্রথম লন্ডনের উইম্বলডনের ‘অল ইংল্যান্ড ক্লাব’ এ অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্টটি। একমাত্র উইম্বলডনের খেলাগুলোই ঘাসের কোর্টে খেলা হয়। ১৮৭৭ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে শুরুর দিকে শুধুমাত্র পুরুষ একক বিভাগই ছিল। পরে ১৮৮৪ সালে এসে যোগ হয় মহিলাদের একক এবং পুরুষদের দ্বৈত প্রতিযোগিতা। ১৯১৩ সাল থেকে মহিলাদের দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯২২ সালের আগে পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টে যে চ্যাম্পিয়ন হতো পরের টুর্নামেন্টে সে সরাসরি ফাইনালে খেলার সুযোগ পেত। আর ১৯৬৮ সালের আগ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে অপেশাদারদের রাজত্ব চললেও এর পর থেকে শুরু হয় পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজত্ব। সেই ১৯৩৭ সাল থেকে একটানা ৭০ বছর ধরে এই টুর্নামেন্টটির টিভি স্বত্ব নিজেদের করে রেখেছে ‘বিবিসি’। বর্তমান সময়ে উইম্বলডন বিজয়ীদের প্রাইজমানি হিসেবে ১ কোটি ৪৬ লাখ পাউন্ড প্রদান করা হয়। পুরুষ ও মহিলা এককের প্রত্যেকে পান ১১ লাখ পাউন্ড প্রাইজমানি।

ইউএস ওপেন

বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ এই গ্র‌্যান্ডস্লাম প্রতিযোগিতাটি। আমেরিকার অভিজাত শ্রেণির মানুষের বিনোদনের সূত্র হিসেবে টুর্নামেন্টটির শুরু হয় ১৮৮১ সালে। তখন এটি পরিচিত ছিল ‘ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নশীপ’ হিসেবে এবং শুধুমাত্র আমেরিকার খেলোয়াড়রাই অংশগ্রহণ করতে পারতো। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইউএস ওপেন’। ১৯৬৮ সাল থেকে ‘পেশাদারিত্ব’ রূপ লাভ করে ইউএস ওপেন। সেখান থেকেই মূল ইউএস ওপেনের যাত্রা শুরু হয় এবং ১৯৭৮ সালে যুক্ত হয় ‘আরসোলিক হার্ডকোর্ট’। অন্যান্য গ্র‌্যান্ডস্লামের মতো এতেও পুরুষ ও মহিলা একক। পুরুষ ও মহিলা দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত। এছাড়া সিনিয়র, জুনিয়র এবং হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে হয় এমন প্রতিবন্ধীদের আলাদা প্রতিযোগিতা।  উইম্বলডনের মতো ইউএস ওপেনেও প্রথম দিকে নিয়ম ছিলো – গত বছরের টুর্নামেন্টে যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে পরের টুর্নামেন্টে সরাসরি ফাইনালে অংশগ্রহণ করতে পারতো। ১৯১১ সাল পর্যন্ত এই নিয়মের প্রচলন ছিল।





সেনাবাহিনীতেই ফিরে যাচ্ছেন  মমেকহা  পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নাসিরউদ্দিন   

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন শিক্ষা অফিসার জীবন আরা বেগম

ময়মনসিংহে তিনজনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা বিষয়ক জরুরি তথ্য

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ৫ জন করোনায় আক্রান্ত !

করেনা সংকটে হত দরিদ্রদের সাহায্যে এগিয়ে আসলেন বিমান চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান

ময়মনসিংহে আকুয়ায় র‌্যাবের অভিযানে টিসিবির সয়াবিন তেল উদ্ধার : আটক

ময়মনসিংহের জাস্টিন ট্রুডু; মেয়র ইকরামুল হক টিটু

বৈশ্বিক দুর্যোগে ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে আসুন সকলের পাশে দাঁড়াইঃ সাজ্জাদুল হাসান

 জয়িতা শিল্পী : মানবতার এক ফেরীওয়ালা

Top