anindabangla

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , রবিবার , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ


অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ক’জন নির্যাতিতা নারী মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার বিষয়ে অভিযোগ র‌্যাবকে জানায়। র‌্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এ বছর মে মাসে পার্শ্ববর্তী দেশে বাংলাদেশের এক তরুণীর পৈশাচিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব পার্শ্ববর্তী দেশে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা বস রাফিসহ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে একজন মহিয়সী “মা” সম্পর্কে জানা যায়। যে “মা” নিজ জীবন বিপন্ন করে, জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে পাচার হওয়া মেয়েকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কাল্লু-নাগিন চক্রের মূল হোতাসহ ৩ জন পাচার চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় চৌকস দক্ষ কর্মকর্তা জয়িতা শিল্পির নেতৃত্বে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  ১১ সেপ্টেম্বর, (শনিবার) সকালে রাজধানীর মিরপুর এবং উত্তরা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা গাইবান্ধা জেলার মোঃ লিটন মিয়া ওরফে ডাঃ লিটন (৪৪) ও তার অন্যতম সহযোগী লক্ষীপুর জেলার আজাদ রহমান খান (৬৫) কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ল্যাপটপ, ৪০৭ পিস ইয়াবা, ১২ ক্যান বিয়ার ইত্যাদি।

গ্রেপ্তারকৃতরা মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচারে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। চক্রে দেশে বিদেশে ১৫-২০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এই চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরির প্রলোভনে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে। পুরুষদের পাশাপাশি চক্রটি নারীদেরও পাচার করে থাকে। বিভিন্ন পেশায় দক্ষ নারী যেমন নার্স, পার্লার ও বিক্রয় কর্মীদের টার্গেট করে এই চক্রটি। চক্রটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করত। তাদের মূল টার্গেট ছিল বিদেশে চাকুরীচ্ছুক দক্ষ নারীদের প্রলুব্ধ করা। প্রতারণার কৌশল হিসেবে চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তারকৃত লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিকেল থেকে পাস করা এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে ভূয়া পরিচয় দিত। সে আরও জানাত যে, সে (লিটন) ইরাকের বাগদাদে একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে কর্মরত। অপর সহযোগী গ্রেপ্তারকৃত আজাদ একটি এজেন্সির আড়ালে নারী পাচারের সাথে যুক্ত। এই চক্রটি বিদেশে পাচারের পর নারীদের অনৈতিক কাজের জন্য বিক্রি করে দিত।  প্রথমে বাংলাদেশ হতে টুরিস্ট ভিসায় মধ্য প্রাচ্যের একটি দেশে নেয়া হত তাদের।  ১-২ দিন অপেক্ষা করিয়ে টুরিস্ট ভিসায় ইরাকসহ অন্যান্য দেশে পাচার করত। গ্রেপ্তারকৃত লিটন ইরাকে কয়েকটি সেফ হাউজে তাদেরকে অবস্থান করাত। পরে সুবিধাজনক সময়ে তাদের বিক্রি করত। গমনাগমনের জন্য তাদের কাছ হতে ৩-৪ লক্ষ টাকা নেয়া হত। আবার তাদেরকে তিন লক্ষাধিক টাকায় বিক্রিও করত চক্রটি। চক্রটি রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রটি ২০০/২৫০ জন মানব পাচার করেছে ; তন্মধ্যে ৩৫-৪০ জন নারী রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃত লিটন ওরফে ডাঃ লিটন সরকারি একটি সংস্থায় মেডিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকুরী করত। ২০১০ সালে অনৈতিক কাজে জড়িতের অভিযোগে সে চাকুরীচ্যুত হয়। সে ২০১৩ সালে ইরাকে চলে যায়। পরে ইরাকে সংঘবদ্ধ চক্র  গড়ে তোলে। ইরাকে অবস্থানকালীন সময়ে ২০১৬ সালে সে গ্রেপ্তারকৃত আজাদ সম্পর্কে জানতে পারে ও পরবর্তীতে তার সাথে সখ্যতা তৈরী হয়। বাংলাদেশ থেকে নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের কাজে এই আজাদই তাকে সহযোগিতা করত। প্রতারণামূলকভাবে এই মানব পাচারের নামে অনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকায় সে ইরাকে গ্রেপ্তার এড়াতে বাংলাদেশে ফিরে আসে। সে দুইবার ইরাকে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে সে বালুর ব্যবসার সাথে জড়িত।

গ্রেপ্তারকৃত লিটন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে নারীদের পাচার করত। লিটনের নামে বিভিন্ন থানায় মানবপাচার ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আজাদ ২০১৬ সাল হতে এই চক্রের সাথে জড়িত হয়ে লিটনের সাথে যোগসাজস ও প্রতারণায় মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ মানব পাচারে যুক্ত হয়। সে এই চক্রের পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথিপত্রের ব্যবস্থা করত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।





দেশ প্রপার্টিজ

করোনায় মানবিক সাহায্য দিন

রুমা বেকারী

করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কীকরণ

নিত্যদিন বা উৎসবে,পছন্দের ফ্যাশন

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন

Top
Top