anindabangla

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , রবিবার , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ


বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারার চেয়ারম্যান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা করোনায় আক্রান্ত। শরীরে হালকা জ্বর ও প্রচণ্ড পেশিব্যথা শুরু হলে দেরি না করেই ১৩ জুন করোনা পরীক্ষা করান। ১৫ জুন ফল হাতে পেলে জানতে পারেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এ নিয়ে মোটেও শঙ্কিত নন বরেণ্য সংগীতশিল্পী। মনে সাহস নিয়ে মোকাবিলা করছেন কোভিড–১৯। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন নিয়মিত, অনেক বেশি করে রেওয়াজ করছেন—এই সময়ে এটাই তাঁর অন্যতম শক্তি বলে মনে করছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা জানান, তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন। বাসায় সার্বক্ষণিক তাঁকে দেখভালের কাজটি করছেন ছোট বোন। আর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে যাবতীয় পরামর্শ দিচ্ছেন দুজন চিকিৎসক। সার্বক্ষণিক তাঁরা দুজন তদারক করছেন আর বাসায় ছোট বোনই দেখভাল করছেন।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষে শরীরে জ্বর ও ব্যথা অনুভব করেন তিনি। এরপর পরিবারের মানুষদের পরামর্শে আইইডিসিআরে করোনার পরীক্ষা করেন।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘আমার অত কঠিন কিছু ছিল না। শ্বাসকষ্ট হয়নি, তবে অক্সিজেন স্যাচুরেশনটা কম আছে, তাই এদিকটায় খেয়াল রাখতে হচ্ছে।’

বন্যা বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় সাহস, শক্তি আমার গান। যেহেতু আমার গলাব্যথা নেই, তাই আমি নিয়মিতই চর্চা করছি। নতুন নতুন গান তুলছি, এই কয়েক দিন প্রতিদিনই ক্লাস নিয়েছি অনলাইনে। আমি যখনই ক্লাস করাই, চর্চা করি—খুব ভালো অনুভব করি; নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের যে সমস্যা, সেটাও যেন তখন থাকে না। এই সময়ে আমি খুব ভালো অনুভব করি। এই সময়ে গানটা অনেক বড় একটা সাপোর্ট, বড় একটা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।’

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরে অনেকেই এখন বেশি যোগাযোগ করছেন। বন্যা বললেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধবেরা সার্বক্ষণিক আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তাঁরা সাহস দিচ্ছেন। যদিও অনেক ফোন আসছে আমি ধরতে পারছি না, তবে এটাকে আমি খুব ইতিবাচকভাবে দেখছি। কারণ, তারা আমাকে নিয়ে ভাবছে, আমাকে নিয়ে অনেক কনসার্ন। এটা সৃষ্টিকর্তার অনেক বড় একটা ব্লেসিং বলেও আমি মনে করি।’

বন্যা জানালেন, এই সময়ে খাওয়াদাওয়া করতে পারছেন। খাওয়াদাওয়ার রুচিতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বললেন, ‘আমি বেশ ভালো খেতে পারছি। আমার মুখের রুচি একদম ঠিক আছে। আমার ছোট বোন প্রতিদিন এত মজার মজার রান্না করছে, আমার তো এই কদিনে খাওয়াদাওয়া করে ওজন বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই আমার জন্য একটা করে নতুন আইটেম রান্না করছে।’

করোনার এই সময়ে গরম পানি, চা বেশি পান করছেন বন্যা। জানালেন, ‘মসলা দিয়ে চা, লেবু, যষ্টিমধু দিয়ে চা পান করছি। আমার ছাত্রীরাও কত ধরনের চায়ের খোঁজ দিচ্ছে। এসব খেতে খুব ভালো লাগছে। গরম খাচ্ছি সারাক্ষণ।’

কাল বুধবার ২৪ তারিখে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার। তিনি মনে করেন, এই সময়ে করোনা রোগীর পাশে থাকা মানুষদের সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা উচিত অক্সিজেন স্যাচুরেশনের বিষয়টি। বললেন, ‘এই সময়ে আমি সবচেয়ে বেশি খেয়াল করেছি, শরীরের অক্সিজেনের স্যাচুরেশনটা হঠাৎ হঠাৎ কমে যায়। এটা অনেক ক্ষেত্রে টের পাই না, কিচ্ছু বুঝি না। রোগীর ওই ব্যাপারে সবাই যেন সতর্ক থাকে, অক্সিজেন ঠিকমতো শরীরে কাজ করছে কি না। আমার বোন দেখা যেত আধা ঘণ্টা পরপর আমার শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ঠিক আছে কি না, দেখত। এটা খুব ক্লোজলি মনিটর করা উচিত। এমনও দেখা যেত, রাতে দুই ঘণ্টা পরপর আমার বোন আমার ঘুমের মধ্যে দেখেছে, শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক আছে কি না।’

সব শেষে দেশবাসী ও ভক্ত–শ্রোতাদের কাছে করোনামুক্ত হওয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তাঁর এখন অবস্থা মোটামুটি ভালোর দিকে বলেও আশ্বস্ত করেছেন।





দেশ প্রপার্টিজ

করোনায় মানবিক সাহায্য দিন

রুমা বেকারী

করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কীকরণ

নিত্যদিন বা উৎসবে,পছন্দের ফ্যাশন

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন

Top
Top