anindabangla

১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , শুক্রবার , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : খুব শীঘ্রই শুরু হচ্ছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের কাজ।  প্রত্যাশিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনে প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন কাজ শীর্ষক প্রকল্পটি গতকাল একনেকে পাস হয়েছে। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ২২৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

ময়মনসিংহে নতুন বিভাগীয় শহরের জন্য প্রথম দিকে ৪ হাজার ৩৬৭ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিলো কিন্তু  প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়নি একনেক। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এখন ৯৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস  বিভাগবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন । তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুপরিকল্পিত ও আধুনিক ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর স্থাপনসহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য স্থান সংকুলান করা সম্ভব হবে, যা দক্ষ ও গতিশীল প্রশাসনের সহায়ক হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হয়েছে। ফলে তাই একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।’

বিভাগীয় কমিশনার আরও জানান, প্রকল্পে গোবিন্দপুর, পাড়ালক্ষীর আলগী, জেলখানার চর, চর সেহড়া, চর ঈশ্বরদিয়াসহ ৫টি মৌজায় মোট জমির পরিমাণ ৯৪৫ দশমিক ২১৯ একর। প্রকল্পে মোট খাস জমির পরিমাণ ১৪২ দশমিক ৬৪৫ একর এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৮০২ দশমিক ৫৭৪ একর। তন্মধ্যে পুনর্বাসনের জন্য জমির পরিমাণ ২৫ একর।

এ প্রকল্পের ৯৪৫ দশমিক ২১৯ একর জমিতে ২২টি ব্লক করা হয়েছে। তন্মধ্যে থাকছে বিভাগীয় প্রশাসনিক অফিস, বনায়ন, খাল, বাণিজ্য, শিক্ষা, বিদ্যমান বাঁধসহ প্রস্তাবিত সড়ক (১৫০ ফুট) গ্রিন এরিয়া, স্বাস্থ্য সুবিধা, হোটেল মোটেল জোন, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, পুনর্বাসন অঞ্চল, আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপেক্স, জাদুঘর, নভোথিয়েটার, ক্লোভারলিফের জন্য সংরক্ষিত অঞ্চল, আবাসিক, সুপ্রশস্ত সড়ক, সেবা ও সুবিধাদি, সামাজিক অবকাঠামো, নতুন বাঁধ নির্মাণের জায়গা, জলাশয় ইত্যাদি।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছর ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর ডেলিগেটেড ওয়ার্ক)।’

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, চার জেলা নিয়ে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত। এ বিভাগটির আয়তন ১০ হাজার ৫৮৪ বর্গকিলোমিটার। যেখানে এক কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার মানুষের বসবাস। নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের নিমিত্ত জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন এবং সুপরিকল্পিত ও আধুনিক ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপন করাই হচ্ছে এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন আল-রশিদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুপরিকল্পিত ও আধুনিক ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর স্থাপনসহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের লক্ষ্যে স্থান সংকুলান করা সম্ভব হবে। যা দক্ষ ও গতিশীল প্রশাসনের সহায়ক হবে।

৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৯.৯.১ এ বর্ণিত লক্ষ্য সরকারি কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পরিকল্পিত নগরায়নের সঙ্গে প্রকল্পটি সম্পর্কযুক্ত। প্রকল্পটি এসডিজির ১১ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা নিরাপদ এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এক প্রতিক্রিয়ায় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস সরকার প্রধান  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন এ প্রকল্প অনুমোদন কাজে যারা শ্রম দিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ দ্রুত শুরু হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসনের কাজও শুরু করা হবে।

twitter sharing button





দেশ প্রপার্টিজ

করোনায় মানবিক সাহায্য দিন

রুমা বেকারী

করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কীকরণ

নিত্যদিন বা উৎসবে,পছন্দের ফ্যাশন

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Top
Top