দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ঐতিহ্যবাহী ডাক্তারখানা মাঠের ১ একর ৪৪ শতক জমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে পরিচালিত প্রায় ছয় ঘণ্টার অভিযানে ফলের দোকান, খাবার হোটেলসহ ৮৪টি দোকানঘর, পাগলু শ্রমিক অফিস ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। উদ্ধার করা জমির বর্তমান বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোর্শেদ সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে জানান, উদ্ধার করা সম্পত্তির মালিক দিনাজপুর জেলা পরিষদ। স্থানীয়ভাবে জমিটি ঐতিহ্যবাহী ‘ডাক্তারখানা মাঠ’ নামে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে মহাসড়কের কাহারোল মোড় থেকে ফিসারী মোড় পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দোকানমালিকদের ইতোমধ্যে তাঁদের স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূল্যবান এই জমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। জমির বিভিন্ন অংশে গড়ে উঠেছিল দোকানপাট, খাবারের হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনা। ফলে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিটি কার্যত বেদখলে ছিল।
উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে মাইকিং করে সংশ্লিষ্টদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনের অভিযান পরিচালনাকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ দোকানমালিক নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেন এবং দোকানঘর ভেঙে ফেলেন। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই অভিযান সম্পন্ন হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম এবং সিনিয়র উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর বাদশা রনি পুলিশ সদস্যদের সরাসরি নেতৃত্ব দেন।
উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা জমিতে কী ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, তিনি কেবল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, জমিটির মালিক জেলা পরিষদ। দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে সেখানে উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত হয়ে ডাক্তারখানা মাঠের জমি পুনরুদ্ধার হওয়ায় এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উদ্ধার করা সম্পত্তি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং জনস্বার্থে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।