সকল খবর দেশের খবর

কালিয়াকৈরে তীব্র এলপিজি সংকট বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, বিপাকে মধ্যবিত্ত-শ্রমজীবী মানুষ

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫-১০-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০০৮


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র হয়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাসের সংকট। উপজেলার হরতকিতলা, আমতলা, মাইওয়ান, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ দোকানে মিলছে না সিলিন্ডার গ্যাস। কোথাও গ্যাস থাকলেও বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে। ফলে বাড়তি টাকা দিয়েও গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও কালিয়াকৈর বাজারে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। তখন বাজারে সরবরাহও ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু গত সপ্তাহের শুরু থেকে হঠাৎ সরবরাহ কমতে থাকে। সপ্তাহের শেষ দিকে সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। রোববার নতুন মূল্য নির্ধারণের আগেই বাজারে থাকা কিছু সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে। এরপর গত তিন-চার দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখন ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

কালিয়াকৈরের বাসিন্দা মো. সাইদুর রহমান বলেন, “কয়েক দিন আগেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে এলপিজি পাওয়া যেত। এখন ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বাজার মনিটরিং করে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”

হরতকিতলা গ্রামের বাসিন্দা কলিম উদ্দিন জানান, তিনি জি-গ্যাস ব্যবহার করেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে জি-গ্যাসের সরবরাহ নেই। গ্যাসের সন্ধানে তাকে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “শহরের অধিকাংশ মানুষ ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাস করেন। সেখানে কাঠ বা খড়ি দিয়ে রান্না করার সুযোগ নেই। এলপিজিই আমাদের প্রধান ভরসা। বাজারে গ্যাস না থাকায় রান্না করা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছি।”

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বসুন্ধরা, ওমেরা, আই গ্যাস, দুবাই-বাংলাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিলার ও বিক্রয়কেন্দ্রের অনেকগুলোই সরবরাহ না থাকায় বন্ধ রয়েছে। কোথাও দোকান খোলা থাকলেও সিলিন্ডার নেই বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দুবাই-বাংলা এলপিজির পরিবেশক মতিয়ার রহমান বলেন, “সরকারিভাবে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়ানো হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাস না থাকায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বসুন্ধরা ও ওমেরাসহ অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণে তারা নিজেরাও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।

কালিয়াকৈরে বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমজীবী মানুষ বসবাস করেন। তাদের বড় একটি অংশ রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট শুধু গ্যাসের বাজারেই নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলছে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলপিজি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়ায় সংকটের সুযোগে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করতে দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক করে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এলপিজির দাম রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।