সকল খবর
দেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ
অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:
প্রকাশ : ১২-৩-২০২৬ ইং |
নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০০৭
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শুরু হয়েছে। এটি ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশন এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে সংসদে ভাষণ দেন। অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ভাষণ দেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের অবদানকে চিরস্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার চেয়ার খালি রেখে দায়িত্বে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পিকার হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন, যা সংসদে সমর্থিত হয়। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার চেয়ার দায়িত্বে থাকেন এবং তার সভাপতিত্বে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনের পর মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উভয়কে শপথ বাক্য পাঠ করান।
অধিবেশনের শুরুতেই সংসদে শোক প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে অনুলিপি পাঠানো হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন সময়ে কিছু বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন দলগুলো রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হতেই সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ সাধারণ কোনো সংসদ নয়, এটি অনেক ত্যাগ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত। তিনি প্রত্যাশা করেন, সংসদকে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত চরিত্র হননের কেন্দ্র বানানো যাবে না এবং এটি জনকল্যাণ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার স্থান হওয়া উচিত। তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, তারা দায়িত্ব পালনের সময় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে সংসদ পরিচালনা করবেন।
ত্রয়োদশ সংসদে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনের ফলে পূর্ববর্তী মন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রণালয় থেকে সরে যান এবং নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
এদিনের অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অধিবেশন আগামী রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে এবং ওইদিন ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় কার্যদিবস শুরু হবে। নতুন সংসদে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।